দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

প্রকাশ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে এই সম্ভাব্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট বয়স মানে না। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই রাজপথে নেমেছিল। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনেও সবাই তরুণের মতো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন।

জামায়াত আমির বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজন বা কাউকে একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষ্যমতে, এই আন্দোলনের মূল মাস্টারমাইন্ড হলো দেশের ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।

শহীদদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদরা কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নন, তারা পুরো জাতির সম্পদ। তিনি জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক পরিণতি ভালো হয় না।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আবারও পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা দেবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে এর পরিণতি শুভ হবে না। তিনি আরও বলেন, একটি কলঙ্কমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে না ওঠা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন