সৌদিতে বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা নবায়নে সুখবর

প্রকাশ:

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি সুখবর এসেছে। এখন থেকে মূল নিয়োগকর্তা বা 'কফিল' আকামা (কাজের অনুমতি) নবায়ন না করলেও, দ্রুততম সময়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে তা নবায়ন করা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো আইনগত বাধা থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছেন সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা।

মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দল এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। সৌদি প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উভয় দেশের শ্রম সহযোগিতা জোরদারকরণে একাধিক প্রস্তাব পেশ করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি—গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) চুক্তি এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তি—এগুলোর আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব। একই সঙ্গে, সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশে একটি 'সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট' প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবের সার্বিক উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সময় মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় বেশ পারদর্শী; তাই তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি আহ্বান জানান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠাতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্ধিত কর্মী চাহিদায় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে গমনকারী নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের সফর জেলে আটক থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন