তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, সংসদ নেতা ও দলের মহাসচিবসহ দলের সকল নেতা বারবার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত মাধ্যমই একমাত্র সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক মঞ্চ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের রক্ত মিশে আছে জুলাই সনদের স্বাক্ষরের সাথে। তাই শহীদদের স্মরণের নামে কেবল ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত উপস্থিতি জাহির করার অজুহাত তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় নিজেদের বিবেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। তিনি শহীদদের স্মরণের কাজকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এত আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র, পার্লামেন্ট এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে পরিপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করা যায়নি বলেই রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করার মতো রাজনৈতিক ঐক্য এখনো সুসংহত করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ উৎখাতে দেশনায়ক তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে যেভাবে লড়াই হয়েছিল, তেমনি বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা মিলে সুশাসন নিশ্চিত করতে চান। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে কারো বিভ্রান্তি, অশ্লীলতা কিংবা আদর্শের নামে অন্য কারো চক্রান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা সীমা ছাড়িয়ে গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সরকার সঠিক দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংবাদিক নেতা হাসান হাফিজ, কবি আবদুল হাই শিকদার ও কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।





