ছেলের বসানো সিসিটিভিতে ধরা পড়ল মায়ের খুনি নাতি

প্রকাশ:

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য ধরা পড়েছে ফ্ল্যাটে ছেলের বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। এই ফুটেজের সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযুক্ত নাতি আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ শনিবার আদালতে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত মাহবুব আরা বেগম দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকার নিজ চারতলা বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। প্রায় নয় মাস আগে তার স্বামী মারা যান। সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বসবাস করেন। মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বাসার বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে শোবার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। নিয়মিত যাতায়াতকারী মাহবুব আরার দেবরের ছেলের ঘরের নাতি আবু তালহাকেই এই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় মাহবুব হাসান মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। গভীর রাতে প্রায় তিনটার দিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি ভয়াবহ দৃশ্যটি দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে আবু তালহা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। শোবার ঘরে গিয়ে তিনি প্রথমে বালিশ ও কাপড় দিয়ে মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। বৃদ্ধা বাঁচার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুললে তাকে খাট থেকে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আবু তালহা কানের দুল খুলে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিহত বৃদ্ধার ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন তাকে হাজির করেন। আদালতে জবানবন্দি প্রদানের পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাহবুব হাসান জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার কারণেই দ্রুত হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

শেয়ার করুন