আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে অংশ নিলেও, স্থানীয় পর্যায়ের এই ভোটে তারা কেন্দ্রীয় সমঝোতার পরিবর্তে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ২০ জুলাই জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের ৩০০ আসনের মতো স্থানীয় সরকারের বিপুল সংখ্যক পদে কেন্দ্রীয় সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে কখনো স্থানীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ না করার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও সমঝোতা হলে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি জানান। সরকার ১০ থেকে ১২ মাসে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করছে।
জামায়াতের এই একক সিদ্ধান্তের বিপরীতে জোটের অন্য দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে ভোট ভাগ হয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তারা বিকল্প দুটি পথ খোলা রেখেছেন—এককভাবে নির্বাচন করা অথবা জামায়াতের বাইরে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করা। মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও জোটগত নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছে। দলটির এক যুগ্ম মহাসচিব জানান, জামায়াত যদি এককভাবে লড়তে চায় তবে তা দ্রুত স্পষ্ট করা উচিত, যাতে তারা অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০টি আসনে সমঝোতা হলেও দলটির দাবি ছিল আরও বেশি, যা নিয়ে অসন্তোষ ছিল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এবং পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নির্বাচনকে দলগুলো তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা পরীক্ষার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন, যেখানে জামায়াতও সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ২১ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপি আপাতত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংগঠনিক অবস্থান এবং প্রার্থীদের পরিচিত করার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে দুই দলের সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকেই কিছুটা অসন্তোষ ছিল, বিশেষ করে খেলাফত মজলিসের মধ্যে। ২৫ জুলাই দলটি জানায়, তারা আর ১১-দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবে না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার বিষয়ে এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে আঞ্চলিক ভিত্তিতে কিছু সমঝোতা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনী কৌশলের বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




