রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি, আক্ষেপ মির্জা ফখরুলের

প্রকাশ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ এবং পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউস এলাকার তথ্য ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, আগে যারা ঘুষ গ্রহণ করতেন, তারা এখনও সেই সুযোগ খুঁজছেন। যারা ভালো কাজ আটকে দিতেন, তারা এখনও তা করছেন। অনেকে ভোল পাল্টে এখন নিজেকে জুলাই-যোদ্ধা হিসেবে দাবি করছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, তার বয়স অনেক হয়েছে এবং তিনি সত্যিকার অর্থেই এবার একটি পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলেন, যা এখনও দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, প্রশাসনের পুরোনো সংস্কৃতি এখনও বহাল রয়েছে। তিনি মনে করেন, কেবল সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

তবে বিএনপির মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারেক রহমানের প্রচেষ্টায় তিনি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন এবং সবাই মিলে তাকে সমর্থন দিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব। মির্জা ফখরুল একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মেধাভিত্তিক ও তরুণবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা; ভবিষ্যতের বাংলাদেশে রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্রে এই চেতনাই পথনির্দেশক হওয়া উচিত। একে কোনো স্বার্থান্বেষী উদ্যোগের অংশ হতে দেওয়া যাবে না।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ কে এম আবদুল হাকিম জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। এছাড়া বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও শহীদ পরিবারের সহায়তার দাবি করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হুট করে হয়নি, বরং এটি ১৭ বছরের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। বাংলাদেশ স্কাউটসের উপপ্রধান জাতীয় কমিশনার ও শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই তরুণদের সাহস জুগিয়েছে। সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, পিএসসি সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খানও বক্তব্য দেন।

তথ্য ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ এবং ৬ আগস্টের জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতা প্রদর্শিত হচ্ছে, যেখানে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর স্থান পেয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি।’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব

একই সঙ্গে তিনি শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ, শহীদ পরিবারের জন্য সম্মানজনক সহায়তা এবং হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হঠাৎ করে ৩৬ দিনে সৃষ্টি হয়নি।

শেয়ার করুন