বিএনপি ও এনসিপির দূরত্ব বাড়াচ্ছে কারা, বাড়ছে সংঘাতের ঘটনা

প্রকাশ:

দেশের ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। প্রসঙ্গত, গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারির সমন্বয়করা গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে। এরপর থেকে থেমে থেমে এই দলের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হন। উল্লেখযোগ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে গত বছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও বরিশালে। ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জসহ গত দেড় বছরে দুই দলের মধ্যে ছোট-বড় অন্তত ১৮টি সংঘর্ষ হয়েছে, যাতে এনসিপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীরও সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এবারের হামলাটি আগের সবকটির মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। এ ঘটনায় দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কমবেশি আহত হন। বেধড়ক মারধরে ২/৩ জনের হাত-পা ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চোখে মারাত্মক আহত অবস্থায় একজনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। এনসিপির অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা জিকে গউছের অনুসারী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করছে এবং এনসিপির প্রতিবাদের ভাষা সহ্য করতে না পেরে তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, শুধু হবিগঞ্জ নয়, নেত্রকোনা, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজেও এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর অন্তত ৫-৬ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিকল্পিত জীবননাশের চেষ্টা বলে দলটি দাবি করছে। এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিএনপি বাধা দিচ্ছে এবং তারা কোনো ঘটনারই বিচার পাননি।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। তাদের মতে, রাজনীতিতে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ও উসকানিমূলক বক্তব্য ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অশ্লীল শব্দচয়ন তরুণ প্রজন্মকে উসকে দিচ্ছে, যার ফল কখনো শুভ হয় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, প্রতিবাদের ভাষা প্রতিবাদী বক্তব্যের মাধ্যমেই হতে পারে, কিন্তু হামলা ও নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, জুলাই বিপ্লবের সতীর্থদের মধ্যে এসব সংঘাত আত্মঘাতী এবং এখনই সতর্ক না হলে ১৯টি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাতের সুযোগ তৃতীয় পক্ষ নিতে পারে।

শেয়ার করুন