স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান এবং এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নতুন প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পের কার্যপরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়, বরং মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাবকে বিবেচনায় নিতে হবে। জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কার্যকর হবে এমন প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ, দশ কিংবা পঞ্চাশ বছর পর দেশের অবস্থান কোথায় দেখতে চাই, সেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান এবং ব্যয় দক্ষতার পাশাপাশি জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে চলমান প্রকল্পসমূহ সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে একীভূত করে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি প্রকল্পসমূহকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে সমন্বিত কর্মসূচির ভিত্তিতে মূল্যায়ন ও তদারকি সহজ হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্প পরিচালকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে এডিপির সার্বিক চিত্র এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়।
সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুসারে প্রকল্প পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়।





