নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নিরপেক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনের প্রতি নয়টি দাবি সম্বলিত একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার এবং অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ক্ষমতার অধিকারী হলেও তারা রাজনৈতিক চাপের মুখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সরোয়ার আলমের গেজেট ও শপথ গ্রহণের উদাহরণ টেনে বলেন, আদালতের নির্দেশের আগেই তড়িঘড়ি করে গেজেট জারি করা কমিশনের অস্বচ্ছতার প্রমাণ। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিচয়ের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তিনি। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, এই নিয়োগ আসন্ন নির্বাচনকে একপেশে করার একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত। সিইসি এ সময় কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে জানান, তবে জামায়াত প্রতিনিধিরা কমিশনকে তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত একে বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে। কমিশন বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময়সূচি নিয়ে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার দাবি জানানো হয়েছে।
জামায়াত নেতারা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ দলের সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধ এবং সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে দল থেকে বহিষ্কৃত এক সংসদ সদস্যের বিষয়টি সাংবিধানিক জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করে তা স্পিকার ও কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের পারিবারিক ঘটনায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে গণমাধ্যমকে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।





