ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ, এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ

প্রকাশ:

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তাকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় ফিরেছেন। ২৩ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে এবং সেটি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ব্রিকস উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি জোট, যেখানে বর্তমানে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া—এই ১১ দেশ ব্রিকসের সদস্য। বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে এবং চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সমর্থনও পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি কেবল বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম সম্ভাব্য বৈঠকের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন মনে করেন, ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহের বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর এই আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এটি বহুপক্ষীয় ফোরামের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়, বরং পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে গতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা দেখা যায়নি। এছাড়া সীমান্তে পুশ-ইন এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সতর্ক অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি এম হুমায়ুন কবীর উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের যে স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে, এই সম্মেলন সেই অস্বস্তি কাটিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জোহানেসবার্গে এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশ অংশ নিলেও ২০২৫ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নেয়নি। এবারের সম্মেলনে ব্রিকসভুক্ত অধিকাংশ দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য চীন ও রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তির এই সময়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন