প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)’ আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু এবং গায়েবি মামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল সাধারণ জনগণ ও দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। সরকার এসব ভুক্তভোগী পরিবারের বেদনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। সরকারের ইতিবাচক অগ্রগতির উদাহরণ টেনে মাহদী আমিন জানান, গত পাঁচ মাসে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, হেফাজতে মৃত্যু বা গুমের একটি ঘটনাও ঘটেনি। এই সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজনীতিতে প্রতিশোধের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় সব রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগত শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অপরাধী ও হুকুমদাতাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো প্রকৃত অপরাধী যাতে পার না পায় এবং কোনো নির্দোষ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়াতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।




