নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় বিএনপির তিন সিনিয়র নেতার নাম

প্রকাশ:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

চলমান আলোচনায় বিএনপির তিন সিনিয়র নেতার নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তারা হলেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনরত একজন সিনিয়র সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রস্তাব করেছেন। শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে দলের হাল ধরা, ত্যাগ স্বীকার এবং মডারেট ও সুবক্তা হিসেবে মির্জা ফখরুল এ পদের জন্য যোগ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ বোঝাপড়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ড. আসিফ নজরুলের মতে, রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নেওয়া হলে মির্জা ফখরুলই হবেন সেরা প্রার্থী।

দলের অনেক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রের উচ্চতর এই সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, তার অধিকাংশই অনুমাননির্ভর। ওই সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার সক্ষমতা—এই বিষয়গুলোই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

শেয়ার করুন