গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্পিকার জানান, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকারের কাছে জমা দেন। তিনি আরও জানান, গত ১২ মার্চ সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকেই স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিজের অসুস্থতার কারণ হিসেবে তিনি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া অতীতে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। আমার মনে হয়, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়।’ স্পিকার আরও জানান, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর তা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি পদে বহাল ছিলেন। তবে তার মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হলো।
গুজব ও ধোঁয়াশা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর বিষয় এবং এর সঙ্গে দেশের ভালো-মন্দ জড়িয়ে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা দূর হবে। স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই তিনি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছিলেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।





