রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে কিছু জানেন না স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

প্রকাশ:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে চলমান আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন।

স্পিকার বলেন, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে তিনি জানান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতো তিনিও বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতি কী সিদ্ধান্ত নেবেন সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা অনুমাননির্ভর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তার ব্যাংকক সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ শেষ হওয়ায় তিনি ২৬ জুলাইয়ের পূর্বপরিকল্পিত তারিখের আগেই দেশে ফিরে এসেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শেয়ার করুন