রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার জন্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে বা স্বাস্থ্যগত কারণে যেকোনো সময় তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি এখনো পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি। পদত্যাগ করলে জানানো হবে। তবে সরকারের উচ্চ মহলের এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেছেন, আজ শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা। সে অনুযায়ী স্পিকারকে তাঁর নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ক্ষেত্রে আরো কয়েকটি দিন সময় চেয়েছেন, তবে তা এক সপ্তাহের বেশি হবে না। রাষ্ট্রপতি যে পদত্যাগ করছেন এবং সেটি খুব শিগগির, সেটি নিশ্চিত।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর আগামী রোববার (৩০ জুলাই) ঢাকা ফেরার কথা ছিল। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ জরুরি বার্তায় সফরসূচি এগিয়ে এনে শুক্রবার (২৮ জুলাই) তাঁকে দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে, শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। স্পিকারের একান্ত সচিব (পিএস) রওশন কবির তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির দফতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে পদত্যাগপত্র যার কাছে করবেন, তিনি নিজেও দেশে নেই। তাই স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর একটি গোপন টেলিফোন আলাপ। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য আসেনি, তবুও ঘটনাটি কেবল একজন রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য বিদায়ের খবর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাসের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্তরেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পুনর্বিন্যাস ঘটেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থায় সাধিত হয়েছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ছিলেন সেই সময়ের একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারী, যিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। এ কারণেই তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগকে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‘পুরনো রাষ্ট্রব্যবস্থার শেষ প্রতীকী অধ্যায়ের সমাপ্তি’ হিসেবে দেখছেন।
চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন- এমন দাবি একাধিক সূত্রের। ওই সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই কথোপকথনের তথ্য জানতে পারে এবং এর পর থেকেই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। তবে এসব দাবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফোনালাপের কোনো অডিও, প্রতিলিপি বা মূল বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত যাচাই-অপেক্ষমাণ তথ্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক আস্থার জায়গা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলবে। অন্যদিকে, বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বা সরকারি ব্যাখ্যা ছাড়া একে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়াও সমীচীন নয়। তাই কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, সরকার বা বঙ্গভবনের বক্তব্য এবং যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করতে হবে।
বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের নেপথ্যে কেবল কথিত ফোনালাপই একমাত্র কারণ নয়; বরং এর পেছনে কাজ করছে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিবেচনা। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন, আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনসংক্রান্ত আলোচনা, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কঠোর অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবেলার অবস্থান—সব মিলিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সমাসীন কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক যোগাযোগ বা যোগাযোগের অভিযোগ সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অতি সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। যদিও নির্বাহী ক্ষমতার বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে, তথাপি রাজনৈতিক সংকট, সরকার গঠন বা সাংবিধানিক অচলাবস্থার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব অসীম। রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে—সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান; সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগে ভূমিকা পালন; সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান; সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি ঘোষণা; সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ড মওকুফ বা লঘুকরণের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন। এসব ক্ষমতার অধিকাংশ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করা হলেও রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক বৈধতার প্রতীক।
যদি রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের সাথে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগের দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সরকার বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিচার করবে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উদ্বেগের মূল কারণগুলো হলো—১. রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির সাথে ক্ষমতাচ্যুত নেতৃত্বের যোগাযোগ রাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য বা বার্তার আদান-প্রদানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২. এটি পুরনো নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার বার্তা দেয় এবং প্রশাসন, আমলাতন্ত্র ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক নেটওয়ার্কগুলোর পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। ৩. শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনসংক্রান্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে এমন যোগাযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ যদি বাস্তবে ঘটে, তবে তার প্রভাব কেবল একটি সাংবিধানিক পদের পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর পেছনে থাকবে এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক বার্তা। প্রথমত, এটি হবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শেষ শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীর বিদায় নিশ্চিত করে এটি একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের পথ সুগম করবে। দ্বিতীয়ত, সংবিধান ও নিরপেক্ষতার বার্তা আসবে এতে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদগুলোতে নিরপেক্ষতা ও বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রশ্নে সরকার যেকোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়—এমন একটি স্পষ্ট বার্তা প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রে পৌঁছাবে। তৃতীয়ত, ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের প্রকাশ। আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন বা পুরনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির একটি প্রতীকী প্রকাশ হতে পারে এটি। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ পদক্ষেপকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর ও সাংবিধানিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখা হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন অতীতেও একাধিকবার প্রকাশ্যে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা বর্তমান জল্পনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি ব্যক্ত করেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি নিজেকে অপমানিত বোধ করছেন এবং জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো পরিষ্কার করে বলেন, সরকার চাইলে তিনি পদ বহাল রাখবেন, আর প্রয়োজন মনে না করলে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন। তাঁর এই পূর্ববর্তী বক্তব্যগুলো থেকে অনুমেয় যে, রাষ্ট্রপতির পদে থাকা নিয়ে তিনি নিজেই একটি শর্তসাপেক্ষ অবস্থান তৈরি করে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট পথরেখা নির্দেশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পেশ করতে হবে। পদটি শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন, যাতে সাংবিধানিক কার্যক্রমে কোনো ছেদ না পড়ে। সংবিধানের নিয়ম মেনে পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন—তা নিয়ে রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও সরকার বা ক্ষমতাসীন জোট এখনো কোনো নির্দিষ্ট নাম সামনে আনেনি, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকদের আলোচনায় কয়েকটি ক্যাটাগরির ব্যক্তির নাম গুরুত্ব পাচ্ছে—অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের প্রবীণ বিচারপতি; অভিজ্ঞ সাবেক শীর্ষ কূটনীতিক; একজন শীর্ষ পর্যায়ের স্বচ্ছ আমলা, সংবিধান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এসব নামের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যোগ্যতা, সাংবিধানিক জ্ঞান, পূর্ণ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও সর্বোপরি জাতীয় গ্রহণযোগ্যতা। তবে এ-সংক্রান্ত সব নামই আপাতত অনানুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ।
বঙ্গভবনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করার কথা রয়েছে। এই নির্ধারিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও নানা জল্পনা চলছে। যদি এই তারিখের আগেই তিনি পদত্যাগ করেন, তবে সংবিধানের আলোকেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি (স্পিকার) ওই দায়িত্ব পালন করবেন। আর যদি রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, তবে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনাকে কেবল একজন ব্যক্তির অপসারণ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতার রদবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এমন এক প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাটি সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক স্তম্ভগুলোকে নতুন করে সাজাচ্ছে। ফলে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা হবে রাষ্ট্রের রূপান্তর ও ক্ষমতার পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।





