রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবারই তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাতে আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন। অপর একটি সূত্র দাবি করেছে, গত মঙ্গলবারই রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণার পর রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে তাঁর সর্বশেষ মিত্রকে সরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের চাপ বৃদ্ধি পায়। যদিও নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দমন-পীড়ন চালানোর নির্দেশ দেওয়ার দায়ে তাঁকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ওই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।
৭৬ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও পদটি মূলত আলংকারিক, কারণ দেশের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পর সাহাবুদ্দিনের পদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে বারবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন, যে নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান ক্ষমতায় আসেন। এ বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, স্থায়ী প্রার্থী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এদিকে, চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি এবং তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ সহকর্মীরা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।





