জুলাই বিপ্লব দেশ ও জাতির মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল: জামায়াত আমির

প্রকাশ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লব দেশ ও জাতির জন্য মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১০, ফলপট্টি সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিংয়ের পর অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু জুলাই মাস ঘূর্ণিঝড়ের মতো এসে ফ্যাসিবাদকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর পর বারবার ফেরার কথা বলে ১৩ বার ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুবসমাজ তার জন্য অপেক্ষা করছে এবং তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারকে জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে উল্লেখ করে জুলাই গণহত্যার বিচারের জন্য সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু বিচার নয়, জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে এবং আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

জামায়াত আমির জুলাই শহিদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, তাদের পরিবারকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা শহিদদের নামে নামকরণের দাবিও জানান তিনি। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সে সময় হ্যাঁ-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, আব্দুর রহমান মূসা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম, মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, শান্ত তালুকদারসহ শহিদ মাহফুজুর রহমানের বাবা আব্দুল মান্নান এবং মোশাররফ হোসেন। সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৭ জানুয়ারি নির্বাচনে মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিংয়ের পর অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিলো হতাশা।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমে

শেয়ার করুন