ভারতের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে চলমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমবারের মতো নীরবতা ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। এর আগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরপরই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মোদি উল্লেখ করেছেন যে, পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশে কোনো বিলম্ব করা হয়নি। রিজিজুর ভাষ্যমতে, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এরই প্রতিবাদে সোমবার হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। তবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, আহতদের মধ্যে ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ এ সময় লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশি হামলার আশঙ্কায় আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিজেপি। মঙ্গলবার দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দিলেও সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর। অভিজিৎ দিপকে জানান, তিনি নারী সমর্থকদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নতুন করে কোনো তরুণ-তরুণী যাতে আহত না হয়, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সহিংস ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছে।
এদিকে, পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আটক হওয়া নিয়েও উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ জুন থেকে অনশনরত ওয়াংচুককে পুলিশ জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। সিজেপির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সোমবার আন্দোলনকারীদের দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির এই আন্দোলন মূলত তরুণদের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, দুর্নীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।





