সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভিডিওচিত্রটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এমপিকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করেছিল যে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। তবে তথ্য যাচাইকারী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ তাদের অনুসন্ধানে জানিয়েছে, ভিডিওটি এআই বা এডিটেড নয়, এটি সম্পূর্ণ আসল। ফুটেজে ২০২৩ সালের ১ জুলাইয়ের সময় দেখতে পাওয়া গেলেও, ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে বিয়ের তারিখ সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। এদিকে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জমা দেওয়া গাজী নজরুলের নির্বাচনী হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো উল্লেখ না থাকায় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে ও প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মোছা. মরিয়াম বেগমকে তিনি বিয়ে করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার অফিসে থাকাকালীন তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ ৫-৭ জন অপরিচিত লোককে নিয়ে তাদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি এটিকে পারিবারিক বিরোধের জের এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





