মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অস্থিরতা এবং আকাশপথে বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল গ্রিফিথস জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং যাত্রী চলাচলের ওপর এর কোনো উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
ফার্নবরো আন্তর্জাতিক এয়ারশোর সাইডলাইনে ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিফিথস উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিমানবন্দরটি স্বাভাবিক সময়ের মতোই ব্যস্ত রয়েছে। তিনি জানান, এমিরেটস এয়ারলাইন বর্তমানে তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পরিচালনা করছে। উত্তরের কিছু আকাশসীমায় বিধিনিষেধ থাকলেও সৌদি আরবের আকাশপথ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প রুট ব্যবহারের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা পুরোপুরি খুলে না দেওয়া পর্যন্ত এই বিকল্প রুটগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
আঞ্চলিক সংকট শুরুর পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মিলে ৬০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে বলে জানান সিইও। একই সময়ে ৩২ হাজারের বেশি উড়োজাহাজ ওঠানামা করেছে এবং ২ লাখ ১৩ হাজার টনের বেশি কার্গো পরিবহন সম্পন্ন হয়েছে। গ্রিফিথসের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দুবাইয়ের বিমান চলাচল অবকাঠামোর এই পরিসংখ্যান তার সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ।
বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস সেবা দিচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে এমিরেটসের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে সক্ষমতার ঘাটতির বড় একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। গ্রিফিথস আরও স্পষ্ট করেন যে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বা এয়ার ফ্রান্সের মতো কিছু ইউরোপীয় এয়ারলাইনের সেবা পুনরায় শুরুতে যে বিলম্ব হচ্ছে, তা মূলত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভ্রমণ নির্দেশনা ও বিমা-সংক্রান্ত শর্তের কারণে, এতে দুবাই বিমানবন্দরের পরিচালনাগত কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
দুবায়ে ভ্রমণের চাহিদা এখনো অত্যন্ত বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বিমানবন্দরটি দ্রুতই শতভাগ পরিচালন সক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।





