এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অনলাইন প্রতারণা বর্তমানে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতারণাকারী চক্রগুলো অন্তত ৮৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। সর্বোচ্চ হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা এই অঞ্চলের অনেক দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়েও বেশি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রগুলো এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে অত্যন্ত আধুনিক কৌশলে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য চুরি, অর্থ পাচার এবং মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে এসেছে। ইউএনওডিসির তথ্যমতে, প্রতারণা চক্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে অন্তত ৮০টি দেশের নাগরিকদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং অনেককে জোরপূর্বক এসব অনলাইন প্রতারণায় নিয়োজিত রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে এসব চক্র এশিয়ার ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ইউএনওডিসি সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও উন্নত ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সামাজিক প্রতারণা এবং ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা চুরির মতো অপরাধের হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সংস্থাটির মতে, দুর্নীতি এবং দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা এই অপরাধী চক্রগুলোর প্রধান শক্তির উৎস। তাই এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা ছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।





