দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় ১০টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। জেলাগুলো হলো লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল। ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে এসব এলাকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে জারি থাকা ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য এই সংকেত নামিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে বাপাউবো জানিয়েছে, আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার রংপুর ও সিলেট বিভাগসহ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানিও বাড়ছে এবং আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের একাংশে ভয়াবহ বন্যায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সরাসরি বন্যার ঝুঁকি না থাকলেও অমাবস্যা, বাতাসের গতিবেগ ও লঘুচাপের প্রভাবে বরিশাল, ভোলা ও বরগুনার নিচু এলাকায় জোয়ারের সময় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকলেও বড় ধরনের বন্যার আপাতত আশঙ্কা নেই।





