১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন বারবার ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী?

প্রকাশ:

ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২ নভেম্বর সোমবার প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। যদিও মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরেও দ্বীপটিতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেনই বা এখানে একের পর এক হামলা চালায় তারা। তবে ঠিক কি ধরণের হুমকিতে ছিল আমেরিকার সেনারা, তা নিশ্চি করে বলেনি। তবে সেসব হামলার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ইরান এই নৌপথকে নিজেদের কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কেশম দ্বীপে নতুন হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর আগেও এই ছোট দ্বীপটিতে গোপনে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, কেশম দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থানই মূলত এটিকে নিয়মিত সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালির মুখে এর অবস্থান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রতিদিন এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো। তাই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যেকোনো বিঘ্ন এড়াতে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রধান কারণ দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে ইরানের বিশাল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামো রয়েছে।

এই স্থাপনাগুলোর মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজের ওপর নজরদারি চালাতে এবং সামরিক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা রাখে।

গত জুলাই মাসেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দ্বীপের আইআরজিসি কমান্ড সেন্টার, ড্রোন স্থাপনা ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল।

সেই অভিযানে তিনজন প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ইরানের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা রুখতে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপে নিয়মিত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা খর্ব করা এবং নিজস্ব সামরিক সম্পদকে নিরাপদ রাখা। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেশম দ্বীপের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারলে হরমুজে ইরানের নজরদারি ও সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা সতর্কবার্তায় বলেছেন, কোনো সামরিক হুমকির কাছেই ইরান নতি স্বীকার করবে না। এছাড়া দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুমকি দিয়েছেন যে, নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তেহরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর বহুবার এই ছোট দ্বীপটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

শেয়ার করুন