১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলা, হরমুজে আতঙ্ক

প্রকাশ:

ইরানের হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দেশটিতে পরিচালিত বেশ কয়েকটি সীমিত সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মূলত হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এসব হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে হামলার কারণ, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে গোপনে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সীমিত অভিযান পরিচালনা করছে ওয়াশিংটন। যদিও একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তার সেই বক্তব্যের পরপরই কেশম দ্বীপে হামলার এই নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে মোট পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

একইসঙ্গে আধা সরকারি সংস্থা ফারস জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহ শহরের দিকে সমুদ্র উপকূল থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে।

তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং সাংবাদিকদের করা প্রশ্নগুলো মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

দুই দেশের এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এখনো সচল রয়েছে। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বর্তমানে দোহা সফর করছেন। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা ও ইসরায়েলের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে এপ্রিলে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।

এর আগে গত ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় সেই চুক্তিটি আর আলোর মুখ দেখেনি বা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন থমকে যায়।

শেয়ার করুন