১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে চীন

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে চীন। গত সোমবার বেইজিংয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠকে ওয়াং ই স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের। ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান।

একই দিনে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৯৭৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম চীন সফর। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলকে যেন বিশ্বের কোনো বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ওমানকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। এই জলপথ দিয়ে অতীতে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো, যা বর্তমানে ইউএস-ইরান উত্তজনা ও সংঘাতের কারণে বাধাগ্রস্ত। ওমানের বেশ কিছু বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওমানের ভূমিকা বর্তমানে উভয় পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওমানের সঙ্গে এই সম্পর্ককে ‘নতুন ঐতিহাসিক শুরুর বিন্দু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

চীন ও ওমানের মধ্যে এই রাষ্ট্রীয় সফরের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একটি যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্রুত আলোচনায় ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছে।

যদিও চীন তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে পরিচিত, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কূটনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা স্থবির ছিল। তবে বেইজিং এখন এই প্রক্রিয়ায় নতুন করে যুক্ত হতে চায়। চলমান সংকট নিরসনে অগ্রগতির অভাবে চীন ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছে। এ লক্ষ্যে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন