পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে আগামী রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারের সঞ্চালনায় এই ব্রিফিংয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বিজিএমইএ’র সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের যে দাবি ছিল তা মালিকপক্ষ মেনে নিয়েছে এবং বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। এছাড়া বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও মালিক সমিতির নেতাদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আগামী ৭ তারিখের মধ্যে বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিধায় শ্রমিকদের অযৌক্তিক আন্দোলনে থাকার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, কিছু কারখানায় শ্রমিকরা স্বাভাবিক কাজ করলেও বাইরে থেকে এসে একশ্রেণির মানুষ তাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি প্রকৃত শ্রমিক ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে গণমাধ্যমকে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের আহ্বান জানান। মন্ত্রীর মতে, কারখানা বন্ধ রাখলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মালিক ও শ্রমিক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মালিকপক্ষ অর্থ সংকটে পড়বে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে বেতন পরিশোধের ওপরও।
সবশেষে গার্মেন্টস শিল্পের স্থিতিশীলতা ও স্বার্থ রক্ষায় মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। সরকার যে সব দাবি নিয়ে কাজ করছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।





