যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে টানা সাত দিনব্যাপী বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামোসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানের সমন্বয় করতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও ইসরায়েলের সামরিক প্রধান জেনারেল আইয়াল জামির আলোচনা করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযান সম্পন্ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গত ২০ অক্টোবর তিনি জানান, অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের নেতৃত্বের পতন ঘটানো এবং এ বিষয়ে তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে একমত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। সরকার পরিবর্তনকে ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে সম্ভাব্য এই সামরিক সংঘাত ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের জন্য কাতার শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। পেন্টাগন ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রণতরি ও মেরিন সেনা বহনকারী যুদ্ধজাহাজ আরব উপসাগরীয় এলাকায় মোতায়েন করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে প্রায় ৯ হাজার সেনা যোগ হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও মেরিন বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের সহায়তায় থাকবে বিপুল সংখ্যক সামরিক বিমান। এপি জানিয়েছে, এ মোতায়েনে প্রায় ৯ হাজার সামরিক সদস্য যুক্ত রয়েছেন।
ওয়াশিংটন এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোকে নতুন এই সামরিক পদক্ষেপ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সম্পর্কে উপসাগরীয় মিত্রদের অবহিত করা হয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফে কৌশল ও নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিএনএন জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন করে হামলা শুরু হলে সংঘাত প্রাথমিক গণ্ডি ছাড়িয়ে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা আক্রমণে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পুরো অঞ্চলটি এখন বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে রয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই এ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব হামলার জবাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পাল্টা আঘাত হেনেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।





