১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বাবা ও শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ:

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামে ভয়াবহ এক হামলায় বাবা গোলাপ হোসেন (৩২) ও তাঁর চার বছরের মেয়ে তোয়াবার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে, যখন গোলাপ হোসেন তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে দাদার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরছিলেন। পথে রামকৃষ্ণদী এলাকার ইটভাটার কাছে একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মারাত্মক জখম হন গোলাপ। এ সময় শিশু তোয়াবা বাবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল বিকেলে মেয়ে তোয়াবাকে নিয়ে রামকৃষ্ণদীতে বাবার বাড়িতে যান গোলাপ হোসেন। এতে ছোট্ট মেয়েটি বাবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। এদিকে শিশু তোয়াবাকে রাতে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি স্বজনেরা।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা রামকৃষ্ণদী গ্রামের ওই ইটভাটার পাশের কাশবনে শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন গোলাপ হোসেন। আজ দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আজ বেলা ১১টার দিকে গোলাপের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

নিহত গোলাপ হোসেন ওই গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। গোলাপের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। স্বজনদের ভাষ্যমতে, গোলাপের নানার বাড়ির জমি নিয়ে মামাদের সঙ্গে সোহরাব হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছে। পেশায় দিনমজুর গোলাপ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘সামান্য জমির জন্য তারা আমার ছেলে ও নাতনিকে কুপিয়ে মেরেছে। আমাকেও একাধিকবার মারার চেষ্টা করেছে।

গোলাপের মা হাসু বেগম জানান, সোহরাবের পরিবার তাদের জমি দখল করতে চায়। এ নিয়ে মামলা করায় সোহরাব ও তাঁর লোকজন গোলাপকে কয়েকবার মারধর করেছে। বুধবার রাতে এশার নামাজের পর বাড়ি থেকে রওনা হলে সোহরাবের দলবল তাঁদের ওপর হামলা করে। মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হাসান জানান, ঘটনার পর গোলাপ বেঁচে থাকা অবস্থায় হামলাকারীদের কয়েকজনের নাম বলেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত গোলাপের মা হাসু বেগম বলেন, ‘সোহরাবরা আমার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে গেছে।

পুলিশ এ ঘটনায় সোহরাব হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে থাকার কারণে সোহরাবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

শেয়ার করুন