ইসরাইলের নির্বাচনে ডানপন্থি দলগুলো নিরঙ্কুশ ও নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভোটের ফলাফল প্রকাশের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে তিনি দেশটিতে একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী কোনো পক্ষই এককভাবে নিশ্চিত জয় পায়নি, তবে তার নেতৃত্বাধীন জোট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আগামী দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখনো প্রকৃত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—ইহুদিবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থি শিবিরের সুস্পষ্ট ও নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।’। তবে বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষেরই সুস্পষ্ট জয়ের আভাস মেলেনি। লিকুদ পার্টির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে।
নেতানিয়াহু তার লিকুদ পার্টিকে ইসরাইলের বৃহত্তম দল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইহুদি জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ডানপন্থি আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী ইহুদিবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে কোনো সরকার গঠন করা হবে না। এমন সরকারকে তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। প্রথমত, এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই যে ইসরাইলে লিকুদই বৃহত্তম দল।’।
নিজের সরকারের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ ও অর্জনের কথা তুলে ধরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, দেইফ, হানিয়া, সিনওয়ার, নাসরাল্লাহ এবং খামেনিকে নির্মূল করার পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
ইসরাইলের অস্তিত্বের ওপর থাকা তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল এবং ইসরাইল বর্তমানে অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটি এখন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার পথে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।





