১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

প্রকাশ:

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণা ও চাপের মুখে ফেলে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার প্রেক্ষাপটে গঠিত এই কমিশন তাদের গবেষণায় দেখেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশিদের মস্কো তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব মানুষের বড় একটি অংশ মূলত অর্থনৈতিকভাবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির। এদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুযোগ নিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে পেশ করা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের যোগসাজশে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের দিয়ে রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিতে সই করানো হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বোঝার বাইরে ছিল। সামরিক বাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে নামার বিষয়টি জানার পর তারা চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্কে পড়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা ডিফেন্স মিনিস্ট্রির চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার ভাষা তারা বুঝতেই পারেননি।

মোট ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন ও জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার ধ্বংসাত্মক চিত্রও ফুটে উঠেছে। কমিশনের ভাষ্যমতে, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে বেসামরিক জনগণকে দুর্ভোগে ফেলা মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল। সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে স্পষ্টভাবে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য, কারণ এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। কমিশন জানিয়েছে, কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল। এর ফলে বরফশীতল অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বয়স্ক মানুষ লিফট ব্যবহার করতে না পেরে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন এবং হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

শেয়ার করুন