বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি বুধবার দুপুরের মধ্যে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাংলাদেশে সরাসরি বড় কোনো আঘাতের আশঙ্কা না থাকলেও এর প্রভাবে আগামী তিন দিন দেশজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মিরসরাইসহ উপকূলীয় একাধিক এলাকায় ইতোমধ্যে বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উপকূলজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সাম্প্রতিক গরম কমে বুধবার থেকে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।
তবে বৃষ্টির পর আবহাওয়ায় সাময়িক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এখনই শীত পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন ড. আবুল কালাম মল্লিক। তিনি উল্লেখ করেন, নভেম্বরের শেষভাগে গিয়ে শীতের তীব্রতা বা অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে কার্তিক মাস চলায় ভোর ও সকালে কিছুটা কুয়াশা পড়া এবং হালকা ঠান্ডা অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এই বৃষ্টির পরপরই দেশে শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া দপ্তরের ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১,১৩০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার থেকে ১,০৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি মোংলা থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার ও পায়রা বন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান নিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ করা হয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার রূপ নিলে বেড়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তীব্র গতির বাতাসের কারণে কেন্দ্র সংলগ্ন সাগরের অবস্থা বেশ উত্তাল রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে চাটগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে নিয়োজিত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।





