১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিয়া মিলিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত

প্রকাশ:

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ (জেএমআইএসইউ) পুনর্গঠন ও নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গত ১১ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতার ঘটনার জেরে তৎকালীন ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর সেই নির্বাচনের দাবিতে গত রোববার থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু প্রশাসন সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং প্রবেশ ও প্রস্থানে কড়াকড়ি আরোপ করে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অনশনরত ও আন্দোলনকারী ছাত্রদের জমায়েতের তাঁবু নিরাপত্তারক্ষীরা খুলে নিতে গেলে এবং তাদের জোর করে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক তর্কাতর্কি ও খণ্ডযুদ্ধ বাধে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মহম্মদ মেহতাব আলম রিজ়ভি একটি নির্দেশিকা জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা শোকজ নোটিশ ও বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অনশনরত ছাত্র ও তাদের প্রতিনিধিদের দেয়া দাবি-সনদ বিবেচনা করে ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন করানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এই শর্ত মেনে না নিয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, আন্দোলনের জেরে জারি হওয়া ক্যাম্পাস ব্যান এবং বহিষ্কারসহ সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে গত শুক্রবার আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবিন বেসিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার ও তিনজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে নারাজ। বিক্ষোভের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতি স্বীকার করলেও নতুন করে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেয়ায় ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতেও এ নিয়ে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।

শেয়ার করুন