১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ৯৬ ঘণ্টায় ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ:

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী এখন যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে এই অভিযান শুরু করা সম্ভব। এক মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এটি একটি ব্যাপক ও বড় মাপের সামরিক পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও শক্তি ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এবারের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় কেবল ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র বা সামরিক ঘাঁটিগুলোই নয়, বরং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই অভিযান চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এর সম্ভাবনা আরও জোরালো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণে তিনি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেই ঝুঁকে আছেন। পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড বর্তমানে বিভিন্ন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা হলো, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল, যার ফলে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো হামলা চালালে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও মার্কিন স্থাপনা ও কর্মীদের ওপর হামলার ঝুঁকি রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, ইরান বর্তমানে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে এবং বেশ কয়েকটি দেশে তাদের হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাস কর্মীদের দ্রুত চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন