বান্দরবানের ঐতিহাসিক রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’ উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফিতা কেটে তিনি এই ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এসময় তিনি পাহাড় ও সমতলের সকল জাতিসত্তার সমন্বয়ে একটি সম্প্রীতি ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’-এর আয়োজন এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের শুভ সূচনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করার সুযোগ নেই। তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিই মূলত দেশের মূল শক্তি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের ত্যাগের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এটি তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি দিন। পাহাড়ের নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত বহুমাত্রিক রূপ ও ঐতিহ্যকে নতুন করে উপলব্ধি করেছেন। সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং প্রত্যেকেরই মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা, কৃষ্টি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। এছাড়া রেইনবো নেশন বা সৌহার্দ্যপূর্ণ জাতি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে একটি বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের যেখানেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা, আধুনিক শিক্ষা ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন। পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নের মেলবন্ধনে এই উৎসব একটি শুভ সূচনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।





