৩১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটক দুই পুলিশ সদস্য দ্রুত ফিরবে: বিজিবি

প্রকাশ:

কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে খুব দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। আটককৃতরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সীমান্তের ভৌগোলিক জটিলতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে, তবে বিজিবি এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। সেখানে এই বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্নক সহযোগিতা করছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব আনহার্ম, এটা আমরা সেভাবেই যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের যে ঐতিহ্যবাহী বাহিনী এবং আমরা যেভাবে এই দায়িত্ব, রেসপন্সিবিলিটিস পালন করে আসছি, এই প্রক্রিয়াতে এই কার্যক্রমের সাথে এধরনের ইনসিডেন্ট কিন্তু নতুন নয়। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি, আমাদের দায়িত্ব পালন করি, পাশাপাশি পেশাগতভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। যদি আমরা ওভারল একটা স্ট্যাটিস্টিক্স নেই, মোটা দাগে সীমান্তে স্থিতিশীলতা সীমান্তের সুরক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত মনে হয় আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি। যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে এগুলো আসবে এবং এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সময়মতো পাওয়া একটি তথ্যও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ বলেন, দেশের সীমান্ত অখণ্ডতা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো পক্ষেই বিজিবি তার দায়িত্ব পালনে পিছপা হবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে সংকট নিরসন করা হবে। সে প্রস্তুতি চলছে এবং তারা আনহার্ম আছে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ে বিজিবি পরিচালক বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি মণ্ডপ রয়েছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৮৩টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের জন্য ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যথাস্থানে পৌঁছানো যায়। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মন্ডপগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে যোগাযোগ সহজ হবে। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা, সংযম বজায় রাখা এবং মানুষের সঙ্গে আচরণে সৌজন্য ও সহমর্মিতা দেখানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুজব বা সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসম্পূর্ণ ভিডিও বা যাচাইহীন তথ্য যেন উদ্বেগ না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য নজরে এলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা বিজিবি ক্যাম্পকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে বিজিবির দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনুরোধ, সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই করুন।

বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন ও ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ৭টি গ্রেনেড ও ১২টি মাইনসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ২৭৫ জনকে প্রতিহত করা হয়েছে এবং মানবপাচারের অভিযোগে ২০ জনকে আটকসহ ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় বিজিবি তার কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শেয়ার করুন