সাতক্ষীরায় এবার দুর্গাপূজার প্রতিমা সজ্জায় দেখা মিলছে নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরের চিত্রটি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অগ্নিঝুঁকির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেখান থেকে দেশলাইয়ের কাঠির সাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানিয়েছেন, এত কম সময়ে এই নতুন সাজ তৈরি করা বেশ বড় চ্যালেঞ্জের। তিনি ১০ জন কারিগরের সহায়তায় ৪০ কেজি তিল ও ১০ কেজি কিশমিশ দিয়ে প্রতিমার নতুন রূপ দেওয়ার কাজ করছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ২২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি কাজের আপডেট জানিয়ে ভক্তদের আমন্ত্রণ জানান। দেড় লাখের বেশি দেশলাইয়ের কাঠি ও রেশমি সুতায় সাজানো এই প্রতিমা ভক্তদের মন কেড়েছিল। ৪০ কেজি তিল, ১০ কেজি কিশমিশ আর ১০ জন কারিগর নিয়ে নেমে পড়েছেন কাজে। গত মঙ্গলবার বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা।
আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে ১৩টি প্রতিমা সাজানো হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা ও পুঁতি দিয়ে। দক্ষিণ বড়দলের শিল্পী প্রকাশ মণ্ডল জানান, প্রায় ৫২ দিন ধরে তাঁরা এই সূক্ষ্ম কাজ করেছেন। রাজধানীর সদরঘাট থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে এই মুক্তা ও পুঁতি সংগ্রহ করা হয়েছে। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও মহিষাসুরকেও এই কারুকাজে নতুন আভিজাত্য দেওয়া হয়েছে। কেউ মুক্তা–পুঁতি বসাচ্ছেন, কেউ শেষবারের মতো রঙের ছোঁয়া দিচ্ছেন। দক্ষিণ বড়দল গ্রামের প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল জানান, তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন শিল্পী ও কারিগর প্রায় ৫২ দিন ধরে কাঠামো তৈরি, মাটির কাজ, রং আর মুক্তা–পুঁতির কারুকাজ করেছেন। ‘প্রতিবছর প্রতিমায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি আমরা,’ বলেন প্রকাশ মণ্ডল।
পাটকেলঘাটার কেশবলাল ঘোষ মহাশ্মশানে প্রথমবারের মতো আয়োজিত পূজায় পাঁচ মণের বেশি পাটের আঁশ ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির সদস্য দেবদাস কর্মকার বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাটকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই প্রয়াস। অন্যদিকে, কলারোয়া পৌরসভার উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে ১৬টি প্রতিমা সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। শুধু ব্রহ্মরাজপুরে নয়, এবার সাতক্ষীরার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা সাজাতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রচলিত উপকরণের বাইরের জিনিস। সোনালি মুকুট ও রঙিন অলংকারের সঙ্গে সাদা মুক্তার আভা প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে আলাদা রূপ।
সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, স্থানীয় শিল্পীদের এমন সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যময় আয়োজন এবার উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আগামীকাল শুক্রবার দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়।
জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, এবার সাতক্ষীরায় মোট ৬১০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপ পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং আয়োজকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে এই ব্যতিক্রমী সাজসজ্জার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মেঝেতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাঠিগুলো।





