মাত্র পাঁচ সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের পাঁচজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাগুলোতে দেশি-বিদেশি প্রেক্ষাপটে নানাভাবে তাঁদের নাজেহাল করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, এদের অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা-মোকদ্দমা থেকে শুরু করে ধরপাকড়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার কোথাও কোথাও পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামাজিকভাবেও এর প্রভাব পড়ছে। মাত্র ৫ সপ্তাহে ৫ খ্যাতিমান নাজেহাল। সবাই হেনস্থা হয়েছেন স্বদেশীদের দ্বারাই। ‘মব’ সংস্কৃতির বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত। দলীয় দৃষ্টিকোণে অনেকে প্রশংসাও করছেন। তবে হেনস্থাকারীরা পাল্টা হেনস্থার শিকারও হচ্ছেন। এই সময়েই ঢাকায় ঘটলো সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে মাখানো হলো কালি।
তালিকায় থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। যেমন জিএম কাদেরের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি আওয়ামীপন্থী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মতো বিষয়গুলোও সামনে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তিনি নিজে জনসমক্ষে দাবি করেছেন যে তিনি বিএনপি-আতঙ্কে ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে বিএনপিতে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। এসব বিষয় নিয়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে ঘটনা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিভিন্ন অঙ্গনে নানাবিধ চাপ ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপট নিয়েও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, ১৮৬১ সালের ৭ মে বা ২৫ বৈশাখে যার জন্ম এবং ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট যার প্রয়াণ, তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন। তার পারিবারিক ব্যবসার ইতিহাস নিয়েও নানা মন্তব্য করা হয়েছে, যেখানে বাঈজীবাড়ি পরিচালনার প্রসঙ্গটি টেনে আনা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে ১৯২১ সালের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ১৯২৬ সালে তার বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব পুরনো ইতিহাস টেনে এনে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশিষ্টজনদের হেনস্তা করার প্রবণতাকে বিশেষজ্ঞরা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। প্রথম আঘাত রবীন্দ্রনাথ কৌশলে নিয়ন্ত্রিত সংঘাত অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র ‘মহালয়া’। আটদিন পরই পবিত্র দুর্গা পূজর মহোৎসব।
তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তার প্রযুক্তি উপদেষ্টা। একইভাবে আইনি ব্যবস্থার কবলে পড়েছেন রাজনৈতিক কর্মী ও নেতারা। যেমন, আয়াস নামে এক নেতার বিষয়ে জানা গেছে যে, তাকে আদালতে তোলার পর জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছে এবং উল্টো পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির এমন পর্যায়ে পুলিশকে অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের অপসারণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে এই পাঁচ সপ্তাহে দেশের কৃতী সন্তানদের হেনস্থার যে হিড়িক দেখা গেছে, তা সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।





