২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবুধাবি টেস্ট: দারুণ শুরুর পরও আক্ষেপে দিন শেষ বাংলাদেশের

প্রকাশ:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তকে শুরুতেই যৌক্তিক প্রমাণ করেন দুই ওপেনার। বিশেষ করে তামিম ছিলেন শুরু থেকেই আফগান বোলারদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক। মাত্র ৪১ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়া এই বাঁহাতি ওপেনার খেলছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই। কিন্তু তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার থেকে ঠিক ১৭ রান দূরে থাকতে পেসার ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন তানজিদ। ফলে ১২৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় দল।

ওপেনিংয়ে তানজিদের সঙ্গী সাদমান ইসলাম শুরুতে কিছুটা ধুঁকছিলেন। ব্যক্তিগত মাত্র ৫ রানে হাশমতউল্লাহ শহিদি তাঁর ক্যাচ মিস করলে নতুন জীবন পান তিনি। এরপর উইকেটে থিতু হয়ে সাবলীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন অর্ধশতক। তবে ৬৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। মোহাম্মদ সেলিমের একটি শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে জিয়া-উর-রহমানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৮৪ রানে বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর উইকেটে জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাঁদের ৩৭ রানের এই জুটিটি ভাঙেন ইয়ামিন আহমদজাই। আহমদজাইয়ের লেংথ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ রানে বিদায় নেন ৭০ বল খেলা মুমিনুল। তবে বল একটু পুরোনো হতেই সেট হয়ে যান সাদমান।

মুমিনুলের বিদায়ের পরই মূলত বাংলাদেশ শিবিরে আকস্মিক বিপর্যয় নেমে আসে। মাত্র ২ রানের ব্যবধানে ফিরে যান অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। টেস্টের মেজাজ ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া মুশফিক ৭ বল খেলে কোনো রান করার আগেই ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য হাতে মাঠ ছাড়েন। শান্তও দলের হাল ধরতে পারেননি; মুশফিক বিদায় নেওয়ার পরের ওভারেই স্পিনার কায়েস আহমেদের বলে পরাস্ত হন তিনি। ৪২ বলে ২৯ রানের ইনিংসে তিনি ১টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান।

দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন চাপে, তখন ষষ্ঠ উইকেটে দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাস। এই দুই ব্যাটার মিলে স্কোরবোর্ডে মূল্যবান ৬২ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ ২৫০ রান পার করান। তবে দলগত ২৮৭ রানে ইশমত আলমের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ২৪ রান করা মিরাজ। এরপর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস।

ফিফটি করার পর ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি লিটন। ৮৯ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৫৩ রান করে মোহাম্মদ সেলিমের বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর দ্রুতই বিদায় নেন হাসান মাহমুদও; তিনিও ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই সেলিমের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ফলে ৩০৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে আরও বড় সংকটে পড়ে বাংলাদেশ।

শেষ বিকেলে কোনো বিপত্তি ছাড়াই বাকি ৪ ওভার পার করে দেন তাইজুল ইসলাম ও নাইম হাসান। দুজনে অবিচ্ছিন্ন থেকে গড়েন ১২ রানের জুটি। নাইম ১১ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। দিন শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান। প্রথম দিন আফগানদের হয়ে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম; তিনি নিয়েছেন ৩টি উইকেট। এছাড়া ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন ইসমত আলম ও ইয়ামিন আহমদজাই। আবুধাবি টেস্টে দারুণ শুরুর পরেও আক্ষেপ নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন