মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর হরমোন, ঘুম, পুষ্টি এবং মানসিক চাপের মতো নানা বিষয় গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অনিদ্রা কিংবা মনোযোগহীনতার মতো বিষয়গুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘাটতির সংকেত দেয়। তাই দীর্ঘস্থায়ী কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওর মাধ্যমে আমাদের মানসিক সুস্থতা ও পুষ্টির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার মতে, শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাব হলে উদ্বেগ, মন খারাপ, ব্রেন ফগ ও অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভিডিওতে দীপশিখা জৈন বলেন, মূলত পাঁচটি ভিটামিনের ঘাটতি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মেজাজকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। তিনি পাঁচটি ভিন্ন উপসর্গ এবং সেগুলোর পেছনে দায়ী সম্ভাব্য পুষ্টি উপাদানের অভাবের কথা তুলে ধরেন।
প্রথমত, উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার অন্যতম কারণ হতে পারে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি৬-এর স্বল্পতা। তবে উদ্বেগের পেছনে অন্য অনেক কারণও থাকতে পারে, পুষ্টির অভাব তার মধ্যে একটি অন্যতম নিয়ামক মাত্র। দ্বিতীয়ত, বিষণ্নতার পেছনে প্রধানত ভিটামিন ডি৩ এবং ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির পাশাপাশি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করেছেন এই পুষ্টিবিদ।
তৃতীয়ত, ব্রেন ফগ বা যেকোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার অক্ষমতা এবং চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দিলে তার পেছনে ভিটামিন বি১২ ও ওমেগা-৩ এর ঘাটতি এবং ইস্ট্রোজেনের নিম্ন মাত্রা ভূমিকা রাখতে পারে। চতুর্থত, ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রার জন্য দায়ী হতে পারে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম, মেলাটোনিন ও ভিটামিন বি১২-এর অপর্যাপ্ততা। পঞ্চমত, ঘন ঘন মেজাজ বিগড়ে যাওয়া বা খিটখিটে অনুভূতির পেছনেও কম ইস্ট্রোজেন, ভিটামিন বি১২ এবং ম্যাগনেসিয়ামের স্বল্পতা কাজ করতে পারে।
পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের পরামর্শ হলো, এসব উপসর্গ নিয়মিত দেখা দিলে তা এড়িয়ে না গিয়ে শরীরে পুষ্টি উপাদানের পরীক্ষা করানো উচিত এবং সেই অনুযায়ী ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই যে তা কেবল ভিটামিনের ঘাটতি, বিষয়টি তেমন নয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ বা অনিদ্রার মতো জটিলতা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।





