২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

প্রকাশ:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র দাবদাহ এবং প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের স্পিন শক্তির চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে সিরিজের একমাত্র টেস্টে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ আবু ধাবির গড় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও, তা অনুভূত হবে ৪৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মতো। এই প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা মাঠে থাকা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই বড় শারীরিক পরীক্ষার সমান। আফগানরা নিজ দেশে এমন আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হলেও, বাংলাদেশ দলের জন্য এই তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ। যেকোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে লম্বা সময় ধরে এমন তাপদাহ সহ্য করা বেশ কঠিন। সেখানে এই তাপমাত্রায় প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা মাঠের লড়াইয়ে থাকা নিঃসন্দেহে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে কন্ডিশনের অজুহাত দিতে নারাজ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি জানিয়েছেন, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এই গরম নিয়ে তারা খুব একটা ভাবছেন না এবং এটি অযুহাত হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শঙ্কা থাকলেও এখন তিনি পুরোপুরি ফিট। এ প্রসঙ্গে শান্তর ভাষ্য, ‘রিকোভারি ভালো হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ এখন সুস্থ আছি। লাস্ট দুইদিন প্র্যাকটিস করেছি, ভালো ফিল করছি।’ কিন্তু আমরা পেশাদার খেলোয়াড়, এটাকে একদমই অযুহাত হিসেবে দেখতে চাই না। আমার মনে হয় যে খেলোয়াড়রাও এগুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না।

আবু ধাবির ধীরগতির উইকেটে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ সামলানো বড় পরীক্ষা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। স্বাগতিকরা তাদের দলে দুই লেগ স্পিনার কায়েস আহমেদ এবং খলিল গুরবাজকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রেহমানকেও রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। তবে অভিজ্ঞ রশিদ খান বা মুজিব-উর-রহমান দলে নেই। অধিনায়ক শান্ত জানান, উইকেট কিছুটা ধীরগতির হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করছেন তারা। দুবাইয়ে খেলা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দলের ক্রিকেটারদের এখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। দলে থাকা আরেক বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রেহমান খেলেছেন ৪ টেস্ট।

দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার পরিসংখ্যানে সমতা থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে ২২৪ রানে হারলেও, ২০২৩ সালে ঘরের মাঠেই আফগানদের ৫৪৬ রানে হারানোর সুখস্মৃতি আছে টাইগারদের। তবে বর্তমান সিরিজে আফগানদের মূল ভরসা রহমত শাহ। ১২ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটি করা রহমত এই ফরম্যাটে তাদের সেরা ব্যাটার। সেই সাথে সেদিকুল্লাহ অটল ও হাশমতউল্লাহ শাহিদীর অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসানের ফর্ম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও তাওহীদ হৃদয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দলে স্বস্তি দিচ্ছে। পচেস্টফ্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে তার ৩৫২ রানের ইনিংস আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে আফগানদের জন্য চ্যালেঞ্জটা যতটা না কঠিন, তার চেয়ে অনেকগুণ বড় চ্যালেঞ্জ এটা বাংলাদেশের জন্য।

টেস্ট ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে গত দুই বছরে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। শান্তর মতে, দল হিসেবে তারা বেশ ভালো খেলছে, তবে উন্নতির জায়গা এখনো রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘গত বছরও আমরা এখানে একটি সিরিজ খেলেছিলাম। এবার ফরম্যাটটা ভিন্ন এবং অনেকদিন পর আমরা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছি। তাই আমরা ভীষণ রোমাঞ্চিত। দল হিসেবে আমাদের খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে; আমরা ভালো ক্রিকেট উপহার দেব।’

ভারতের বিপক্ষে বাজে সিরিজের স্মৃতি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু করতে চায় আফগানিস্তান। অন্যদিকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ। যদিও আরব আমিরাতে দিনের বেলায় টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই, তবুও প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। সব মিলিয়ে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রোমাঞ্চকর টেস্ট ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

শেয়ার করুন