২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে বাধ্য করা পদত্যাগের ঘটনায় মামলা

প্রকাশ:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ‘মব’ বা জনতা কর্তৃক হেনস্তা করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রাজশাহী মহানগর রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি। বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার ভিডিওচিত্র ও ছবি পর্যালোচনা করে জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজ চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী নাজমুল হোসাইন জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দেয়। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। এ সময় উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আপনি রাজশাহীর মানুষকে কাজ দেন না, ঢাকার মানুষদের কাজ দেন। পদত্যাগপত্রটি তারা আগেই টাইপ করে নিয়ে এসেছিল।

উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান, ঘটনার সময় হামলাকারীরা তার কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজ ধারণের সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। সেই সাথে ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তিনি বর্ণনা করেন, ‘মিটিং চলাকালে বাইরে হট্টগোল শুনেছিলাম। পরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে আমার দপ্তরে ঢুকে পড়ে। তারা আমাকে কঠোর ভাষায় চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে স্বাক্ষর না করলে হয়তো আরও খারাপ কিছু ঘটতে পারত।’ ঘটনার পর ওইদিন বিকেলে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্ট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য পুরো বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজমান পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক কাজ করছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন