১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: মিজানুরসহ তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড

প্রকাশ:

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানসহ তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) ও শাহ আলম (৫৯)। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিরোধের জেরে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তারা দাবি করেন, নিউগিনি প্রপার্টিজের লোকজন নিজেরাই এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন এবং আসামিরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাঁদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক। নিউগিনি প্রপার্টিজের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের কেনা জমিতে নির্মিত প্রকল্পটি জবরদখল এবং সেখানে সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছিলেন আসামিরা।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জানান, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। বিরোধপূর্ণ এই জমিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ছিল। মিজানুর রহমানসহ অন্য আসামিরা জমিটি দখলের চেষ্টা করেছিলেন এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার নেপথ্যের ব্যক্তিরা এখনো ধরা পড়েননি।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্নারও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে, যারা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রকল্পে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। দুর্বৃত্তরা সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজ ও নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ নজরুল ইসলামকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনায়ও ভাঙচুর হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ করে দুটি টেলিভিশন, এসিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৯৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে। নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল হোতাদের অনেকেই এখনো ধরা পড়েনি।

শেয়ার করুন