২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

প্রকাশ:

মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেই দীর্ঘদিনের জটিল রহস্য উন্মোচনে অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি যৌথভাবে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ এবং জার্মানির দুই গবেষক পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল। সোমবার, ৫ অক্টোবর, সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। তিন বিজ্ঞানীকে মূলত ‘অপ্টোজেনেটিকস’ নামক একটি বৈপ্লবিক পদ্ধতি উদ্ভাবন ও এর প্রযুক্তিগত বিকাশের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজ ০৫ অক্টোবর (সোমবার) ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। অপ্টোজেনেটিকস সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করেছে। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এককোষী শৈবাল ক্ল্যামাইডোমোনাস কীভাবে আলোর উৎসের দিকে সাঁতার কাটে।

বিংশ শতাব্দী থেকেই স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কোন নির্দিষ্ট অংশ শরীরের কোন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তা শনাক্ত করার জন্য নিরলস গবেষণা চালিয়ে আসছেন। সেই গবেষণারই একটি মাইলফলক হলো অপ্টোজেনেটিকস। এই পদ্ধতিটি মস্তিষ্ক গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নোবেল কমিটির মেডিসিন পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান পার সভেনিংসন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, অপ্টোজেনেটিকসের মাধ্যমে বর্তমানে মস্তিষ্কের কার্যক্রমের যে সুক্ষ্ম মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, তা কয়েক দশক আগেও কেবল কল্পনা করা যেত। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা মস্তিষ্কের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক ও সংকেত আদান-প্রদান প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে অনেক স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। ২০ শতকে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোন অংশ কোন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। তবে সে সময়কার প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো নির্দিষ্ট অংশ ও কার্যক্রমের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণার নেপথ্যে থাকা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ধারায় দেখা যায়, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল শৈবালের কোষের পৃষ্ঠে উপস্থিত একটি বিশেষ ধরনের প্রোটিন শনাক্ত করেন। এই আবিষ্কারটি ছিল অপ্টোজেনেটিকস প্রযুক্তি তৈরির প্রথম ধাপ। পরবর্তীতে কার্ল ডেইসেরথ এই উদ্ভাবনী ধারণাটিকে কাজে লাগিয়ে জটিল প্রাণীর মস্তিষ্কে আলোক-সংবেদনশীল কোষের মাধ্যমে স্নায়ু কোষ নিয়ন্ত্রণ করার উপায় বের করেন। তাদের সম্মিলিত এই কাজ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নায়বিক জটিলতা নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। নীল আলো এই প্রোটিনের ওপর পড়লে এর ভেতরে একটি চ্যানেল খুলে যায়।

স্মরণযোগ্য যে, ঠিক আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাকাগুচি। ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। ১৯০১ সাল থেকে আলফ্রেড নোবেলের অছিয়তনামা অনুযায়ী শুরু হওয়া এই নোবেল পুরস্কার প্রদান প্রক্রিয়া আজও পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অর্জনগুলোর স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

শেয়ার করুন