১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে নূহের নৌকার খোঁজে নতুন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান

প্রকাশ:

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকার দুরুপিনার ফরমেশনে ফের শুরু হয়েছে নূহের নৌকার অস্তিত্ব খোঁজার বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম। নৌকার আদলে তৈরি বিশাল মাটির ঢিবিটিকে ঘিরে বর্তমানে রাডার স্ক্যান, কোর ড্রিলিং এবং মাটির নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি তথ্যচিত্র নির্মাতা দল সহযোগিতা করছে। তুরস্কের ফিল্ম কমিশনের প্রেসিডেন্ট সাইত ইয়ারদিমজি জানান, আন্তর্জাতিক মানের তথ্যচিত্র তৈরির উদ্যোগের ফলে দোগুবায়াজিত অঞ্চলের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন অনুসন্ধানে মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। বর্তমান গবেষণা প্রকল্পে সংগৃহীত মাটির নমুনা আরও বিশ্লেষণ করা হবে।

তাত্ত্বিকভাবে এই এলাকার পরিচিতি ১৯৫৯ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীর মানচিত্রবিদ ও ক্যাপ্টেন ইলহান দুরুপিনারের আকাশ থেকে তোলা ছবি সংগ্রহের পর থেকেই। আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত এই ভূতাত্ত্বিক গঠনটি নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হতে পারে বলে দীর্ঘকাল ধরে জল্পনা রয়েছে। বর্তমান প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জানকার আতিলা এবং মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স। তারা জিপিএস ডাটা ব্যবহার করে এলাকাটির দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেছেন এবং ভূগর্ভস্থ কাঠামো দেখতে উন্নত রাডার ব্যবহার করছেন।

গবেষক ড. আতিলা জানান, রাডার জরিপে মাটির নিচে কিছু ফাঁকা জায়গা চিহ্নিত করা গেছে, যা অনেকটা কক্ষ বা করিডোরের মতো মনে হচ্ছে। এই কাঠামো পরীক্ষা করতে শিগগিরই ‘গোফার’ নামক একটি বিশেষ রোবট মাটির গভীরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও ধারণ ও নমুনা সংগ্রহে সক্ষম। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে সরু কোর ড্রিলের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করা হবে। অধ্যাপক আতিলা জানিয়েছেন, পুরো শীতকালজুড়ে নমুনাগুলো বিশ্লেষণের কাজ চলবে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রাথমিক ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। রোবটটি উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মাটির নমুনাও সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণে নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ঢিবির বাইরের তুলনায় ভেতরের মাটিতে জৈব পদার্থের উপস্থিতি তিনগুণ বেশি। এছাড়া ভেতরের মাটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩৮ শতাংশ বেশি এবং পিএইচ মাত্রায় প্রায় আটগুণ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময়ের বদ্ধ পরিবেশে জৈব পদার্থের ক্ষয়ের কারণে এমন পরিবর্তন হওয়া সম্ভব। তবে এটি নূহের নৌকার চূড়ান্ত প্রমাণ কি না, তা নিয়ে গবেষকরা এখনও কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু ও ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেকজনকে, ১৮০ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দুরুপিনার ফরমেশনকে নূহের নৌকার অংশ না বলে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। ভূতাত্ত্বিকদের একাংশ মনে করেন, চুনাপাথর ও আগ্নেয় কাদামাটির সমন্বয়ে গঠিত এই ঢিবিটি প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলেই নৌকার আকৃতি ধারণ করেছে। অতীতে মার্কিন বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফ্যাসোল্ড গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে এলাকাটি পরীক্ষা করেছিলেন এবং সে সময় এটি প্রায় ১৬৪ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট বলে পরিমাপ করা হয়, যা অনেক ধর্মীয় বর্ণনায় উল্লেখ থাকা নূহের নৌকার দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। ফরমেশনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৪ মিটার বলে মাপা হয়েছিল, যা ধর্মীয় বর্ণনায়র্থকদের মধ্যে নানা দাবি রয়েছে। ফরমেশনের আশপাশে পাওয়া বড় পাথর নিয়েও নূহের নৌকার সমর্থকদের মধ্যে নানা দাবি রয়েছে।

তবে সেই সময় আবিষ্কৃত কিছু পাথরকে অনেকে প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে দাবি করলেও সংশয়বাদীরা সেগুলোকে কেবল স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক বলে অভিহিত করেছেন। পরবর্তীতে ফ্যাসোল্ড নিজেও নৌকার তত্ত্ব থেকে সরে এসেছিলেন বলে জানা যায়। চলমান এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি আগামী দুই বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গবেষক দলের। যদি কোনোভাবে এর সঙ্গে ঐতিহাসিক নৌকার সম্পর্ক প্রমাণিত হয়, তবে স্থানটি বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপাতত সব কাজই নিবিড় বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের পর্যায়ে রয়েছে।

শেয়ার করুন