২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় তিন পরাশক্তি

প্রকাশ:

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্ব মোড়লরা। এজন্য চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথ উদ্যোগে ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদে সৌরশক্তির ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাত থাকে। এই দীর্ঘ অন্ধকার এবং তীব্র ঠান্ডার সময় ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা বজায় রাখতে পারমাণবিক শক্তিই একমাত্র ভরসা। নাসা তাদের ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই একটানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে। এর বিপরীতে, চীন-রাশিয়া যৌথ প্রকল্পের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘সেলেনা’ চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

তবে চাঁদে এমন পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পৃথিবী বা মহাকাশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে এটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী চাঁদের কোনো অংশের ওপর কোনো দেশ একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরমাণু চুল্লির সুরক্ষার অজুহাতে কোনো রাষ্ট্র যদি নিজস্ব চুল্লির আশপাশে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এই শঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যার ফলে মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।

শেয়ার করুন