১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে কারখানায় দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ:

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত ফার্মিক স্টিল লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কারখানার ফার্নেসে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গলিত লোহা ছিটকে চারজন শ্রমিক-প্রকৌশলী গুরুতর দগ্ধ হন। উদ্ধার পরবর্তী চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আহত অপর শ্রমিক জুয়েল (৩৬) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের এ দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩), শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) এবং মনির হোসেন (২৭)। দুর্ঘটনার পরপরই তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শরিফুল ইসলাম ও চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল।

মৃত্যুর ধারাবাহিকতায় ১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শরিফুল ইসলাম এবং একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনির হোসেনের মৃত্যু হয়। সবশেষে ২ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রকৌশলীর মৃত্যুর বিষয়টি চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সুমন হোসেন নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেংলিং হংকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি রোগীর স্বজনদের আশ্বস্ত করে জানান, ইনস্টিটিউটেই তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার শিকার নিহত শরিফুল ইসলাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সেলিমের ছেলে। তার পরিবারে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানায় নিহতের স্বজনদের সঙ্গে ফার্মিক স্টিলের চীনা ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দোভাষীর মাধ্যমে সেখানে ক্ষতিপূরণ ও আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, তারা মামলা করার চেয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তবে বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সক্ষমতা তাদের নেই বলে জানিয়েছেন শরিফুলের বাবা মো. সেলিম। চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে জেতা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

বৈঠকের বিষয়ে শরিফুলের চাচা মনির হোসেন জানান, নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। অন্যদিকে, জোরারগঞ্জ থানার ওসি আবদুল হালিম জানান, কারখানার প্রতিনিধি ও নিহতের পরিবার থানায় এলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। ওসি আরও বলেন, “এটি কোম্পানি ও ভুক্তভোগী দুই পক্ষের বিষয়। পুলিশ যা করবে, আইন মেনেই করবে।”

ওসি আবদুল হালিম জানান, নিহতের পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে। কারখানার ফার্নেসে ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুরো বিষয়টি এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।

শেয়ার করুন