১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে ১১ দেশের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ:

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা চার দিনে প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মসূচিতেই দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ৩০টি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন।

মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, প্রতিটি দেশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও আলোচনা হয়েছে।

সফরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মর্গান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠক। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে অন্য এক বৈঠকে আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বৃহস্পতিবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী পাঁচবার বক্তব্য রেখেছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, ইউএনএইচসিআর প্রধান এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে তার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট, নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক দুটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক ইস্যুতেও প্রধানমন্ত্রী নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং চারটিতে বক্তব্য দেন। প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স ও ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে নিয়োজিত প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন