১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার কথা স্বীকার বিএনপি নেত্রীর

প্রকাশ:

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। এতদিন বিএনপি নেতারা এ ধরনের আর্থিক সুবিধা বা সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি রোজিনা আক্তার অবশেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। গত শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

সমাবেশে রোজিনা আক্তার দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, বিগত ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা যে ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তিনি চেয়েছিলেন তার প্রতিপক্ষরাও যেন সেই একই পরিস্থিতির মুখে না পড়েন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তারা যে হারে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা শুরু করেছেন, তাতে তাদের আর শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। কারণ, আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তারাও যেন সেভাবে নির্যাতনের শিকার না হন।

তার এই বক্তব্য ফতুল্লার রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের গোপন যোগাযোগ ও সমঝোতার যে অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে শোনা যাচ্ছিল, এই স্বীকারোক্তি সেই জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অতীতে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ রহমত উল্লাহ ওরফে কাইল্লা রকমত-এর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের গোপন বৈঠকের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে রোজিনা আক্তারকে সেখানে দেখা গিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে রকমতকে আত্মগোপনের সুযোগ দেওয়ার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছিল, তা তিনি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবারের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কথিত যোগাযোগ, সমঝোতা ও বৈঠক নিয়ে বাজারে যে গুঞ্জন ছিল, তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপির মাঠপর্যায়ের একাংশ নেতাকর্মী এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে বরং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পুনরায় জোরদার করেছেন। রোজিনা আক্তারের এই অনভিপ্রেত মন্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন