৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি, চীন-রাশিয়ার উদ্বেগ

প্রকাশ:

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের অধীনে বর্তমানে কক্ষপথে ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল উইপনস’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র রয়েছে। এতদিন মহাকাশে যুদ্ধের সক্ষমতা তৈরির কথা বললেও, কক্ষপথে সরাসরি অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন এর আগে প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা নতুন কোনো ঘটনা না হলেও, এটি এমন এক সময়ে এলো যা বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং মহাকাশে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় স্যাটেলাইটের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যোগাযোগ, নেভিগেশন, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণের মতো কাজে স্যাটেলাইট অপরিহার্য। কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করে দেওয়া যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে রেখেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এগুলো সরাসরি স্যাটেলাইট ধ্বংসকারী কাইনেটিক অস্ত্র না হয়ে জ্যামার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো নন-কাইনেটিক সরঞ্জাম হতে পারে। কারণ স্যাটেলাইট ধ্বংস করলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নিজেদের স্যাটেলাইটের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, চীন ও রাশিয়া তাদের স্যাটেলাইট সক্ষমতা বাড়িয়ে মার্কিন ও মিত্রদের নজরদারি বা আক্রমণের চেষ্টা করছে। মার্কিন স্পেস অপারেশন্সের প্রধান জেনারেল ডগলাস শিয়েস মেরিল্যান্ডের এক সম্মেলনে জানান, মহাকাশ সক্ষমতা ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মতো অভিযান চালানো সম্ভব হতো না।

এদিকে, মেইঙ্কের ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন ও রাশিয়া উভয়ই মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে এবং নিজেদের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

শেয়ার করুন