ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি টাঙানোর প্রতিবাদে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সেই ছবিগুলো ডাকসুর প্রবেশপথ ও মেঝেতে রেখে পদদলিত করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একদল শিক্ষার্থী এই কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজের ইচ্ছায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি সংগ্রহশালায় স্থান দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে তারাও নিজেদের ইচ্ছায় জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করেছেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হয়েও তিনি একজন পাকিস্তানপন্থীর ছবি দেয়ালের মধ্যে সম্মানের সঙ্গে স্থাপন করতে চেয়েছেন। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে রাজনীতি পরিচালনার মতো জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবিকে তার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিতদের বাংলাদেশের পক্ষে থাকার আহ্বান জানাই।
ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদারস ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশ শামস অভিযোগ করেন, জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানো এবং ডাকসু থেকে ছবি সরানোর পর তার ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমেই জুমার অতি উৎসাহ প্রকাশ পেয়েছে। আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
উল্লেখ্য, গত রোববার সংস্কারের পর ডাকসু সংগ্রহশালা চালুর পর সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি না রেখে জিন্নাহর তিনটি ছবি এবং আবদুল মালেকের ছবি স্থান পায়। এরপর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। সোমবার দুপুরে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন এবং পরবর্তীতে ছাত্র ফেডারেশনের কর্মীরা সেখানে গোলাম আযমের জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দেন। পরে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে দিয়েছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরা। স্বাধীনতা আন্দোলনের চরিত্রগুলোকে সরিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন।





